, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিএনপি

​জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন খালেদা জিয়া

  • আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৫ ১০:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৫ ১০:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন
​জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি- বাসস

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে এবং গত বছরের ছাত্র আন্দোলন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত, মায়ের চোখের অশ্রুদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়।

তিনি আজ বিএনপির আয়োজনে ভার্চুয়ালি এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন, যেখানে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় গত বছরের এই সময়ে ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের ঐক্যকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ঐক্য আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। আমাদের সকলকে একসঙ্গে থাকতেই হবে, যেন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

এ সময় তিনি বলেন, গত বছর যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য এবং সংগ্রামের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, যেখানে সকল শ্রেণি-প্রতিবন্ধকতার ঊর্ধ্বে উঠবে এবং গণতন্ত্রের মঞ্চে বাংলাদেশ তার নিজের গৌরবময় অবস্থান ফিরে পাবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু সময় পরস্পরের আস্থা এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, সঠিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা পদ্ধতি সম্পর্কে ভাবনা-চিন্তা করা উচিত। এটি বাংলাদেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা পর্যালোচনা করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতির কথা চিন্তা করা হয়েছে অনেক দেশের পক্ষ থেকে, কিন্তু আমাদের দেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং বাস্তবতাকে যদি মনে রাখা যায়, তবে সেসব ধারণা দেশে কার্যকর হবে কিনা, তা পরীক্ষণ করা প্রয়োজন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এসময় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একটি কঠোর অবস্থান নিতে বলেন, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "এ সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের রক্তপাত ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান আমাদের মুক্তির পথ দেখিয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদের পতন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।

এছাড়াও, খালেদা জিয়া বিচারহীন হত্যাকাণ্ড, গুম, এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "যাদের জীবন হারিয়েছে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের এবং তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা মেধাবী, তোমরা এই দেশের ভবিষ্যত। তোমাদের ঐক্যবদ্ধতার শক্তিতে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক এবং উন্নত দেশে পরিণত করতে হবে।

আলোচনা সভায় দলের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, যেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। সভার শেষে শহীদদের স্মরণে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, যা আন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে সবার সামনে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, এবং আমরা তার দেখানো পথে হাঁটছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক খান এবং দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

বিশেষ ঘটনা হিসেবে, সভার শুরুতেই একটি তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, যিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তাকে উপস্থিত জনগণের একাংশ 'ফ্যাসিস্ট' এবং 'স্বৈরাচারের সহযোগী' হিসেবে আখ্যায়িত করে হট্টগোল করতে শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অন্য নেতৃবৃন্দ হস্তক্ষেপ করে তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেন।

এই ঘটনার পর, বিএনপি নেতারা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ধরনের প্রতিবাদ ও প্রতিবন্ধকতা দলের ভিতরে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে, এবং দলের বৃহত্তর ঐক্য বজায় রাখতে সকলকে শান্তিপূর্ণ ও সংযত থাকতে হবে।

শেষে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সকলকে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যেখানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকবে এবং বাংলাদেশের জনগণের অধিকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তবে, আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সরকার যদি এই সম্মিলনকে গুরুত্ব না দেয়, তবে আগামীতে আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
 
সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো  বাংলাদেশের সুযোগ!

​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের সুযোগ!